বিশেষ প্রতিবেদক:: মধুপুর হানাদারমুক্ত দিবস আজ ১০ ডিসেম্বর। মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতিবহ এই দিনটি মধুপুরবাসীর জন্য এক অনন্য ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দিন হলেও বর্তমানে তা পালন নিয়ে নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতার রেশ। সরকারি-বেসরকারি কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না—এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধারা শত্রু ঘাঁটি ভেঙে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও ত্যাগের মহিমায় মধুপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল ও কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়। 

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিনটি ছিল এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আশা ও মুক্তির এক দিন। দীর্ঘ নয় মাসের দুঃস্বপ্নের মতো দখলদারিত্ব, নির্যাতন ও গণহত্যার অবসান ঘটেছিল এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে। স্থানীয় প্রবীণরা এখনো স্মরণ করেন, কেমন করে গ্রামের মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন, কেমন করে তারা স্বাধীনতার পতাকা দেখে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিনটি উদযাপনে ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সমাজকর্মীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের দিনগুলো পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব। অথচ সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকায় দিনটি অনেকটাই প্রথাহীনভাবে পার হয়ে যাচ্ছে।

মধুপুরের সচেতন মহল মনে করেন, হানাদারমুক্ত দিবস শুধু স্মরণ নয়—এটি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তারা চান, আগামী বছর থেকে দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হোক এবং স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, র‍্যালি ও স্মরণসভা আয়োজন করা হোক। এতে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও কাছ থেকে জানতে পারবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, গৌরবের এ দিবসটি যেন কালের বিবর্তনে হারিয়ে না যায়; বরং যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যাক মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য বীরত্বগাঁথা।