স্টাফ রিপোর্টারঃ-টাঙ্গাইলের মধুপুরে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা ক্রয়কৃত জমি বিক্রি ও চাষাবাদে বাধা, গালিগালাজ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ফজলুল হক মনি নামে এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে মধুপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জমির মালিকানা, দখল এবং সাম্প্রতিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

ফজলুল হক মনি দাবি করেন, ১৯৫৯ সালের ৩১ জুলাই তার চাচা দুদু মিয়া সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে তাঁর ও তার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেনের নামে ১০৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে তাঁর অংশ ৫৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পরে ১৯৮২ সালের ১০ নভেম্বর তার বাবা কালা মিয়া একই দাগ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে তাঁকে আরও ২২ শতাংশ জমি দেন। দুটি দলিলের ভিত্তিতে একই দাগে তাঁর মোট ৭৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জমিগুলো মধুপুর উপজেলার পুন্ডুরা মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ৩৩-এর ৩৫৪ দাগ এবং হাল দাগ নম্বর ৫০৪-এর অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিগুলো ভোগদখল করে আসছেন এবং সেখানে আনারস ও সেগুনের বাগান করেছেন।

ফজলুল হক মনি আরও দাবি করেন, তার ছোট ভাই বকুল মিয়া ১৯৭৯ সালে একই দাগ থেকে হেবা দলিলের মাধ্যমে জমি পেয়েছিলেন। বকুল মিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি নিজের স্বত্ব-দখলীয় জমির একটি অংশ বিক্রির জন্য সম্ভাব্য এক ক্রেতাকে নিয়ে জমি পরিমাপ ও আগাছা পরিষ্কার করতে গেলে বকুল মিয়ার ছেলে রিপন, লিটন ও ইদুল সেখানে গিয়ে তাকে, তার ছেলে এবং সম্ভাব্য ক্রেতাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। জমি কিনতে কেউ এলে তাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

ফজলুল হক মনি বলেন, “প্রায় সাত মাস ধরে এ পরিস্থিতির কারণে আমি জমি বিক্রি করতে পারছি না। জমিতে চাষাবাদ ও ব্যবহারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য মধুপুর পৌরসভায় শালিসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদী পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। পরে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানেও বিবাদী পক্ষ উপস্থিত হয়নি বলে জানান তিনি।

ফজলুল হক মনি জানান, এ বিষয়ে মধুপুর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষের দলিলপত্র ও বক্তব্য শোনার পর দীর্ঘদিন ধরে যে যার দখলে থাকা অবস্থান বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল হক মনি জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান, জমি বিক্রি ও চাষাবাদে বাধা বন্ধ এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।