স্টাফ রিপোর্টার:: মধুপুর উপজেলায় বিনামূল্যে পাঠ্য বই অবৈধভাবে পাচার ও বিক্রি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এ কেলেঙ্কারি নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত রুই কাতলাদের বাদ দিয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী আর নৈশপ্রহরীকে দায়ি করে মামলা হওয়ায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। গত বুধবার এক টন চোরাই পাঠ্য বই জনতার হাতে আটক এবং থানায় মামলার প্রেক্ষিতে চোরাই পাঠ্য বই নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। মধুপুর থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চাহিদা মোতাবেক সরকার প্রতি বছর বিনামূল্যের বই সরবরাহ করে। পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষা অফিস থেকে বই সরবরাহ নেন।
প্রতি বছর শিক্ষা অফিস অক্টোবর-নভেম্বরে পৌনে চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠায়। সরবরাহকৃত দুই থেকে আড়াই লক্ষ বই জুন পর্যন্ত বিতরণ হয়। অবশিষ্ট অবিলিকৃত বই স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুদামে রাখা হয়। গত শিক্ষা বর্ষের জন্য অক্টোবরে প্রায় চার লক্ষ বইয়ের চাহিদাপত্র পাঠায় । পুরো বই সরবরাহ আসে। গত -জুন পর্যন্ত পৌনে দুই লক্ষ বই বিতরণ হয়। অবশিষ্ট সোয়া দুই লক্ষ বই গুদামজাত ছিল। এসব বই এখন চোরাই পথে বিক্রি হচ্ছে। চোরাই বইয়ের একটি চালান গত বুধবার নরকোনা গ্রামে জনতার হাতে ধরা পড়লে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশ প্রহরী তোফায়েল আহমেদ এবং এবং ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়। কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, বই বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার না থাকায় একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন আহমেদ ব্যাপক দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। তিনি বাড়তি চাহিদা পত্র দেখিয়ে অতিরিক্ত বই আনেন। অবিলিকিৃত লাখো লাখো বই গুদামজাত করে রাখেন। আর সুযোগ বুঝে নাইট পার্ড তোফায়ের আহমেদের মাধ্যমে চোরাই পথে তা বিক্রি করেন। তিনি অফিস থেকে স্কুলে বই পরিহন বাবদ বিল নিয়ে দুর্নীতি করেন। তিন শত বই নিলে ছয়শতের বিল দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন। টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীনকে নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েও লাভ হয় না।
একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন ২০১৫ সালে যোগদান করেন। দীর্ঘ দিন ধরে একই স্টেশনে চাকরি করায় একটা অবৈধ বলয় গড়ে তুলেছেন। এদের নিয়েই তিনি বাড়তি পাঠ্য বই আনা এবং চোরাই বই বিক্রির অবৈধ ব্যবসা করে আসছেন। তথ্যাানুসন্ধানে জানা যায়, কোন কারণে পাঠ্য বই অবিলিকৃত থেকে গেলে উপজেলা পাঠ্য বই বিতরণ কমিটির সম্মতিক্রমে নিলাম দরে বিক্রি করা যায়। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মধুপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অবিলিকৃত বই নিলাম দরে বিক্রি করেনি। দেড় যুগে অবিলিকৃত প্রায় ৩৫ লক্ষ পাঠ্য বই কোথায় গেলো তা নিয়ে এক রহস্য। একাডেমিক অফিসার মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, চাহিদাপত্র পাঠানো এবং অবিলিকিৃত বইয়ের হিসাব ও গুদামজাতকরণের বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলতে পারবেন। তিনি এসবের কিছুই জানেন না। মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান জানান, তিনি সাত মাস ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পাঠ্য পুস্তক কেলেঙ্কারির বিষয়ে বর্তমান একাডেমিক অফিসার এবং আগে কর্মরত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা বলতে পারবেন। টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা জানান,  জেলা শিক্ষা অফিসের এখানে কোন দায় নেই। সরকারি নিয়মানুযায়ী একটি বইও অবিলিকৃত অবস্থায় থাকার কথা নয়। আর মধুপুরে অবিলিকৃত অবস্থায় এতো বই কিভাবে থেকে যায় বা চোরা পথে বিক্রি হয়, তার দায়ভার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা পাঠ্য বই বিতরণ কমিটিকেই বহন করতে হবে। উপজেলা পাঠ্য বই বিতরণ কমিটির সভাপতি এবং মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক পাঠ্য বই কেলেঙ্কারি উদঘাটনে তদন্ত কমিটি করতে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষে সেই কমিটিই বলতে পারবে কেন এসব ঘটেছে।